পারিবারিক গল্প · ৫ মিনিট পড়া · ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মায়ের চিঠি

আলমারির সবচেয়ে নিচের তাকটা কখনো খোলা হতো না। মা চলে যাওয়ার পর পুরো ঘরটাই যেন সময়ের সাথে থমকে ছিল, শুধু ওই তাকটা বাদে — সেখানে হাত দেওয়ার সাহস কারো হয়নি।

বছর পনেরো পর, বাড়ি বিক্রির কাগজপত্র গোছাতে গিয়ে রিনা প্রথম সেই তালা খুলল। ভেতরে পুরনো কিছু শাড়ি, একটা কাঠের বাক্স, আর তার নিচে একটা খাম। খামের ওপরে মায়ের নিজের হাতে লেখা — "আমার তিন সন্তানের জন্য, যেদিন তোমরা একসাথে বসবে।"

রিনা ভাইবোনদের ডাকল। বহুদিন পর তিনজন একসাথে বসল সেই পুরনো ঘরে, যেখানে ছোটবেলায় তারা মায়ের কোলে ঘুমাতো। চিঠিটা খোলার আগে কারো মুখে কথা ছিল না।

চিঠিতে মা লিখেছিলেন সহজ কিছু কথা — সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়া না করার অনুরোধ, একে অপরের পাশে থাকার কথা, আর একটা স্বীকারোক্তি যে তিনি কখনো কাউকে বেশি বা কম ভালোবাসেননি, শুধু ভালোবাসা প্রকাশ করার সময় পাননি।

চিঠি পড়া শেষ হতে হতে তিনজনের চোখই ভেজা। বাড়ি বিক্রির কাগজগুলো সেদিন আর গোছানো হয়নি। তার বদলে তিন ভাইবোন সারা বিকেল বসে রইল পুরনো ছবির অ্যালবাম নিয়ে, প্রথমবারের মতো একসাথে, মায়ের অনুপস্থিতিতেও তাঁর কথা রেখে।

← পারিবারিক গল্প-এ ফিরুন হোম পাতা